খালেদা জিয়ার মুক্তির আদেশ যাচ্ছে কারাগারে

খালেদা জিয়ার মুক্তির আদেশ যাচ্ছে কারাগারে

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির আদেশ কারাগারে পাঠানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির আদেশ (জিও অর্ডার) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। আদেশ কারাগারে পৌঁছলে প্রক্রিয়া শেষে খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির দুই মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ড নিয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে বন্দি আছেন খালেদা জিয়া। পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হলেও গত বছর ১ এপ্রিল থেকে কারা তত্ত্বাবধানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৭৫ বছর বয়সী খালেদা জিয়া।

এর আগে মঙ্গলবার আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের জানান, বয়স বিবেচনায় ও মানবিক কারণে সাজা ছয় মাস স্থগিত রেখে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মুক্তির শর্ত হলো, এ সময়ের মধ্যে তিনি বিদেশে যেতে পারবেন না। নিজ বাসায় থেকে চিকিৎসা নিতে পারবেন।

আইনমন্ত্রী আরও জানান, খালেদা জিয়ার ভাই শামীম ইস্কান্দার, বোন সেলিমা ইসলাম ও বোনের স্বামী রফিকুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একই বিষয়ে সাক্ষাৎ করেছিলেন। সেখানে খালেদা জিয়ার মুক্তির আবেদনের ব্যাপারে কথা বলেন তারা। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাকে মুক্তি দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।

করোনাভাইরাস মহামারিতে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্ব যখন অবরুদ্ধ, ঠিক তখনই ২৫ মাস সাজা ভোগের পর মুক্তি পেতে যাচ্ছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। নানা উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দলীয় নেত্রীর মুক্তির খবরেও রাজপথে আনন্দ-উল্লাস করেননি বিএনপি নেতাকর্মীরা। মুক্তির সিদ্ধান্তের পর স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও সতর্ক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তে দলের নেতাকর্মী ও দেশবাসী স্বস্তিবোধ করছেন।